একদিন, এক মহান বানরের দল, যিনি হনুমান নামে পরিচিত, তিনি বৈদেহী সীতাকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে লঙ্কার দিকে যাত্রা করেন। তিনি সীতাকে খুঁজে পাওয়ার সংবাদ নিয়ে রামচন্দ্রের কাছে ফিরে আসেন। সীতাকে খুঁজে পাওয়ার পর, তিনি রামকে আশ্বস্ত করে বলেন, “সীতাকে দেখা গেছে।” এরপর, সুগ্রীবের সাথে মিলিত হয়ে, তিনি মহাসাগরের তীরে গিয়ে সূর্যের মতো উজ্জ্বল তীরগুলো দিয়ে সমুদ্রকে উত্তেজিত করেন। সমুদ্র, নদীর রাজা, তার অঙ্গীকারে প্রকাশ পেয়েছিল এবং নল সেই অতি প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ করতে শুরু করে। সেই সেতুর মাধ্যমে তারা লঙ্কায় পৌঁছায় এবং সেখানে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। অবশেষে, রাম সীতাকে উদ্ধার করেন, কিন্তু তিনি অজানা এক লজ্জায় আক্রান্ত হন। জনসমক্ষে সীতার প্রতি কঠোর ভাষায় কথা বলেন, যা সহ্য করতে না পেরে সীতা আগুনে প্রবেশ করেন, সত্যের প্রতি তার অটল বিশ্বাস নিয়ে। আগুনের সাক্ষ্যে, সীতা পাপমুক্ত প্রমাণিত হন এবং সেই মহান কাজের মাধ্যমে তিনটি জগৎ এবং সমস্ত জীব সন্তুষ্ট হয়। ঈশ্বর ও ঋষিরা রঘবের মহৎ আত্মার প্রতি সন্তুষ্ট হন। এরপর, রাম ভীবীষণকে লঙ্কার রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করেন এবং তার কাজ সম্পন্ন করে দুঃখমুক্ত হয়ে আনন্দে ভাসেন। দেবতাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ পেয়ে, বানরদের পুনরুজ্জীবিত করে, তিনি পুষ্পক রথে বন্ধুদের নিয়ে অযোধ্যার দিকে রওনা হন। ভারদ্বাজের আশ্রমে পৌঁছে, রাম সত্যের প্রতি অটল থেকে হনুমানকে ভরত-এর কাছে পাঠান। তারপর, আবার সুগ্রীবের সাথে কথা বলে, পুষ্পক রথে চড়ে নন্দিগ্রামে পৌঁছান। নন্দিগ্রামে, তিনি তার জটাজুট ছেঁটে ফেলেন এবং তার ভাইদের সাথে সীতাকে পুনরুদ্ধার করে রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। জনসাধারণ আনন্দিত ও সুখী হয়ে ওঠে; তারা সমৃদ্ধ, স্বাস্থ্যবান, এবং দুর্ভিক্ষের ভয়ে মুক্ত ছিল। কেউ কখনও পুত্রের মৃত্যু দেখবে না, এবং নারীরা সবসময় তাদের স্বামীদের প্রতি নিবেদিত থাকবে। আগুনের ভয়, পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয়, বাতাসের ভয়, কিংবা জ্বরে ভোগার ভয় থাকবে না। শহর ও রাজ্যে সম্পদ ও শস্যে পূর্ণ হবে। সকলেই আনন্দিত থাকবে, সত্যের যুগের মতো; শত শত অশ্বযজ্ঞ ও প্রচুর স্বর্ণ দান করবে। রাম রাজত্ব করবেন দশ হাজার এবং একশ বছর ধরে, এবং তারপর ব্রহ্মার জগতে চলে যাবেন। এই পবিত্র, পাপ-নাশক, সৎকর্মের কাহিনী, যা বেদ দ্বারা অনুমোদিত, যিনি রামের কাহিনী পাঠ করবেন, তিনি সব পাপ থেকে মুক্ত হবেন। এই জীবনদায়ী রামায়ণের কাহিনী পাঠ করে, একজন ব্রাহ্মণ উজ্জ্বলতা অর্জন করবে; একজন ক্ষত্রিয় পৃথিবীর রাজত্ব পাবে; একজন ব্যবসায়ী ব্যবসায় সফলতা পাবে; এমনকি একজন শূদ্রও মহান হবে। এভাবেই, বাল্মীকি রামায়ণের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়। একদিন, ঋষি নারদর কথা শুনে, বাল্মীকি তার শিষ্যদের সাথে সম্মান জানিয়ে মহান ঋষির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কিছুক্ষণ পর, যখন সেই ঋষি দেবলোকের উদ্দেশ্যে চলে যান, বাল্মীকি তামসা নদীর তীরে পৌঁছান। সেখানে তিনি একটি পরিষ্কার ও সুন্দর তীর দেখতে পান এবং তার শিষ্যকে বলেন, “এটি সত্যিই মনোরম, এখানে আমি স্নান করতে চাই।” বাল্মীকি তার শিষ্যকে নির্দেশ দিয়ে স্নানের জন্য প্রস্তুত হন। স্নান শেষে, তিনি বিশাল বনাঞ্চলটি পরিদর্শন করতে বের হন। হঠাৎ, তিনি একটি দম্পতি ক্রৌঞ্চ পাখিকে দেখতে পান, যারা একসাথে উড়ছিল। কিন্তু হঠাৎ, এক শিকারী মন্দ উদ্দেশ্যে পুরুষ পাখিটিকে হত্যা করে। স্ত্রী পাখি তার সঙ্গীকে মৃত অবস্থায় দেখে গভীর দুঃখে কাঁদতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে, মহৎ হৃদয়ের বাল্মীকি দয়ায় আপ্লুত হন। এভাবেই, রামের কাহিনী এবং বাল্মীকি ঋষির দয়ালু হৃদয় একত্রিত হয়, যা পরবর্তীতে রামায়ণের মহৎ কাহিনীর সূচনা করে।